Shariful Islam | এর সিইও এবং লেখক | সিনিয়র বেটিং বিশ্লেষক

রাশেদ আহমেদ চৌধুরী ২০১৫ সালে 333OK.io তৈরি করেছেন। এগারো বছরে প্ল্যাটফর্মটা বাংলাদেশের #১ বেটিং সাইট হয়ে উঠেছে। ১০ লক্ষের বেশি ইউজার এখন 333OK ব্যবহার করে। তার যাত্রা এবং সাফল্যের গল্প এখানে।

রাশেদ আহমেদ চৌধুরী কে?

Shariful Islam

রাশেদ আহমেদ চৌধুরীর জন্ম ১৯৮৮ সালে, চট্টগ্রামে। ব্যবসায়ী পরিবারে বড় হলেও তিনি নিজের পথ তৈরি করেছেন। টেকনোলজি আর এন্টারপ্রেনিউরশিপে আগ্রহ ছিল শুরু থেকেই।

333OK তার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রজেক্ট। ২০১৫ সালে শুরু করে এগারো বছরে এটাকে বাংলাদেশের শীর্ষ বেটিং প্ল্যাটফর্ম বানিয়েছেন। এখন ৫০টার বেশি দেশে 333OK সেবা দিচ্ছে। রাশেদের ভিশন আর কঠোর পরিশ্রম এই সাফল্যের মূল চালিকা শক্তি।

ক্যারিয়ারের শুরু

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা

রাশেদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে এমবিএ করেছেন। পড়ার সময় এন্টারপ্রেনিউরশিপ আর স্ট্র্যাটেজিক ম্যানেজমেন্টে ফোকাস ছিল।

ইউনিভার্সিটিতে থাকতেই ছোট একটা ই-কমার্স ভেঞ্চার শুরু করেছিলেন। খুব বড় হয়নি, কিন্তু ব্যবসা কীভাবে চালাতে হয় সেটা শিখেছেন। ক্লাসরুমের থিওরি আর রিয়েল ওয়ার্ল্ডের পার্থক্য বুঝেছেন তখনই।

প্রথম চাকরি

এমবিএ শেষ করে একটা মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে স্ট্র্যাটেজি কনসালট্যান্ট হিসেবে জয়েন করেন। সেখানে বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে কাজ করেছেন।

পাঁচ বছর কাজ করার পর বুঝলেন নিজের কিছু করতে চান। কনসালটিং থেকে অনেক কিছু শিখেছেন—কীভাবে বিজনেস মডেল তৈরি করতে হয়, কীভাবে মার্কেট অ্যানালাইসিস করতে হয়। কিন্তু নিজের আইডিয়া বাস্তবায়ন করার টান বেশি ছিল।

২০১৫ সালে 333OK প্রতিষ্ঠা

২০১৫ সালে 333OK প্রতিষ্ঠা

২০১৫ সালে রাশেদ চাকরি ছেড়ে 333OK শুরু করেন। তখন বাংলাদেশে অনলাইন বেটিং মার্কেট একদম নতুন। রিস্ক ছিল অনেক।

কিন্তু রাশেদ রিসার্চ করে দেখেছিলেন যে পটেনশিয়াল আছে। মানুষ ক্রিকেট পছন্দ করে, স্পোর্টসে আগ্রহী। একটা ভালো প্ল্যাটফর্ম থাকলে তারা ব্যবহার করবে। এই বিশ্বাস নিয়ে শুরু করেছিলেন।

333OK এর যাত্রা

এগারো বছরে 333OK অনেক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে। প্রতিটা বছর নতুন কিছু যোগ হয়েছে। রাশেদের লিডারশিপে প্ল্যাটফর্ম ক্রমাগত বেড়েছে।

২০১৫ – শুরুর বছর

প্রথম বছর সবচেয়ে কঠিন ছিল। টেকনিক্যাল টিম তৈরি করা, লাইসেন্স পাওয়া, পেমেন্ট গেটওয়ে সেটআপ করা—সব কিছুতে সময় লেগেছে।

শুরুতে মাত্র কয়েকশ ইউজার ছিল। কিন্তু রাশেদ প্রতিটা ফিডব্যাক শুনেছেন। প্ল্যাটফর্ম ঠিক করেছেন। ধীরে ধীরে ইউজার বাড়তে শুরু করে।

২০১৭ – সম্প্রসারণ

দুই বছরে 333OK স্টেবল হয়ে গেছে। এবার সম্প্রসারণের সময়। রাশেদ নতুন গেম যোগ করেন। লাইভ ক্যাসিনো চালু করেন।

মার্কেটিং বাজেট বাড়ান। টিভি অ্যাড, সোশ্যাল মিডিয়া ক্যাম্পেইন—সব শুরু করেন। ইউজার বেস দ্রুত বাড়তে থাকে। ২০১৭ সালের শেষে 333OK বাংলাদেশের টপ ৩ বেটিং সাইটের একটা হয়ে যায়।

২০১৯ – আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

২০১৯ সালে 333OK আন্তর্জাতিক লাইসেন্স পায়। এটা একটা বড় মাইলস্টোন ছিল। এখন শুধু বাংলাদেশ না, অন্য দেশেও সেবা দেওয়া যাবে।

রাশেদ ইন্ডিয়া, পাকিস্তান, নেপাল—এসব দেশে এক্সপান্ড করেন। প্রতিটা মার্কেটের জন্য আলাদা স্ট্র্যাটেজি তৈরি করেন। লোকাল পেমেন্ট মেথড যোগ করেন। লোকাল ভাষায় সাপোর্ট দেন।

২০২১ – প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন

২০২১ সালে রাশেদ প্রযুক্তিতে বড় বিনিয়োগ করেন। AI-বেসড বেটিং সাজেশন চালু করেন। মোবাইল অ্যাপ আপগ্রেড করেন। লাইভ স্ট্রিমিং ফিচার যোগ করেন।

এই ইনোভেশনগুলো ইউজার এক্সপেরিয়েন্স অনেক ভালো করে দেয়। 333OK অন্য প্ল্যাটফর্ম থেকে আলাদা হয়ে যায়। টেকনোলজিতে এগিয়ে থাকার কারণে কম্পিটিটররা পিছিয়ে পড়ে।

২০২৬

এখন 333OK বাংলাদেশের #১ বেটিং প্ল্যাটফর্ম। ১০ লক্ষের বেশি অ্যাক্টিভ ইউজার আছে।

প্রতিদিন হাজার হাজার বেট প্লেস হয়। প্রতি মাসে কোটি টাকার ট্রানজেকশন হয়। রাশেদের ভিশন ছিল 333OK কে গ্লোবাল ব্র্যান্ড বানানো। সেই লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে প্ল্যাটফর্ম।

রাশেদের নেতৃত্বের ধরন

333OK এর সাফল্যের পেছনে রাশেদের লিডারশিপ স্টাইল বড় ভূমিকা রেখেছে। তিনি কীভাবে কোম্পানি চালান সেটা জানা দরকার।

দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা

রাশেদ শর্ট টার্ম প্রফিটের পেছনে ছোটেন না। তিনি লং টার্ম ভিশন নিয়ে কাজ করেন। প্রতি বছর পাঁচ বছরের প্ল্যান তৈরি করেন। কোথায় যেতে চান, কীভাবে যাবেন—সব ম্যাপ আউট করা থাকে।

এই পরিকল্পনার কারণে 333OK কখনো দিকভ্রষ্ট হয়নি। প্রতিটা সিদ্ধান্ত বড় লক্ষ্যের সাথে মিলিয়ে নেওয়া হয়।

333OK এর সাফল্যের কারণ

প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ

রাশেদ প্রযুক্তিতে কখনো কম্প্রোমাইজ করেন না। লেটেস্ট টেকনোলজি ব্যবহার করেন। রেগুলার আপডেট করেন।

333OK এর প্ল্যাটফর্ম ফাস্ট, সিকিউর এবং ইউজার ফ্রেন্ডলি। মোবাইল অ্যাপ স্মুথ চলে। লোডিং টাইম কম। এসব ছোট জিনিস ইউজার এক্সপেরিয়েন্সে বড় পার্থক্য তৈরি করে।

কাস্টমার ফোকাস

রাশেদের প্রথম অগ্রাধিকার কাস্টমার। তিনি নিয়মিত ইউজার ফিডব্যাক রিভিউ করেন। কী সমস্যা হচ্ছে, কী উন্নতি করা যায়—এসব দেখেন।

333OK এর কাস্টমার সাপোর্ট ২৪/৭ অ্যাভেইলেবল। বাংলা, ইংরেজি, হিন্দি—তিন ভাষায় সাপোর্ট দেওয়া হয়। সমস্যা হলে দ্রুত সমাধান হয়। এই সার্ভিসের কারণে ইউজাররা 333OK এ বিশ্বাস রাখে।

শেষ কথা

রাশেদ আহমেদ চৌধুরী তার ভিশন, কঠোর পরিশ্রম এবং স্মার্ট স্ট্র্যাটেজি দিয়ে 333OK কে বাংলাদেশের #১ বেটিং প্ল্যাটফর্ম বানিয়েছেন। এগারো বছরের যাত্রায় অনেক চ্যালেঞ্জ এসেছে, কিন্তু তিনি হাল ছাড়েননি।